বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি::
নাম নাদের হোসেন। তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) পদে চাকুরীরত। সেই পুলিশ কর্মকর্তা নাদেরের বিরুদ্ধেই অন্যের স্ত্রীকে ভাগিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো বিচার পায়নি অভিযোগকারী। এএসআই নাদের হোসেনের দাবী তিনি বিবাহিত তাই তিনি কোনো নারীকে বিয়ে করেননি। তবে ফারহানা আক্তার উর্মি বলেন, এএসআই নাদের হোসেনকে তিনি বিয়ে করেছেন। আর এএসআই নাদের হোসেনের প্রথম স্ত্রী শিল্পী বেগেমও দাবী করেন তার অনুমতি না নিয়ে ফারহানা আক্তার নামে এক নারীকে এফিডেভিট মুলে বিয়ে করেন তার স্বামী। পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছে বিষয়টি মিমাংশা হয়েছে আর অভিযোগকারী নাবিদ হাসান হিমেলের অভিযোগ তিনি বিচার পায়নি উল্টো ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে।
জানা গেছে, হাতীবান্ধা থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) নাদের হোসেন কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় গত বছরের ২০ জুলাই ওই এলাকার নাবিদ হাসান হিমেলের স্ত্রী এক সন্তানের জননী ফারহানা আক্তার উর্মিকে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নাবিদ হাসান হিমেল গত ২ আগষ্ট লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ পত্রের সাথে নাদের হোসেন ও ফারহানা আক্তার উর্মির বিয়ের একটি এফিডেভিট সংযুক্ত করেন নাবিদ হাসান হিমেল। গত ১৯ আগষ্ট এএসআই নাদের হোসেনের স্ত্রী শিল্পী বেগমও লালমনিরহাট পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগে শিল্পী বেগম দাবী করেন, তার স্বামী নাদের হোসেন তার অনুমতি না নিয়ে ফারহানা আক্তার উমি নামে এক নারীকে এফিডেভিট মুলে বিয়ে করেন এবং ওই বিয়ের পর থেকে তাকে ও সন্তানের ভরন পোষন দিচ্ছে না। দুইটি অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২১ আগষ্ট তৎকালীন পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর)কে নিদের্শ দেন। যার স্মারক নং ২১৭৮/আরও, তারিখ: ২১/০৮/২০১৯ ইং।
কিন্তু নাবিদ হাসান হিমেলের অভিযোগ, এ ঘটনার ৭ মাসে পার হলেও তার দায়ের করা অভিযোগের কোনো বিচার পাননি তিনি। উল্টো ওই পুলিশ কর্মকতার নাদের হোসেন তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে দাবী তার।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানায় এএসআই নাদের হোসেন বলেন, ফারহানা আক্তার উর্মি নামে কোনো নারীকে তিনি বিয়ে করেনি। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। তবে ফারহানা আক্তার উর্মি বলেন, তিনি তার আগের স্বামী নাবিদ হাসান হিমেলকে তালাক দিয়ে এএসআই নাদের হোসেনকে বিয়ে করেছেন।
অপর দিকে এএসআই নাদের হোসেনের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, আমি যতদুর শুনেছি আমার স্বামী ২য় বিয়ে করেছে। ওই বিয়েতে আমার অনুমতি নেয়া হয়নি।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে বলতে হবে। তবে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, বিষয়টি আগের পুলিশ সুপার তদন্ত করেছেন। আমি যতদুর জানি ওই সময় উভয় পক্ষের মাঝে মিমাংশা হয়েছে।